গ্ৰামীনফোন ই-সিম দাম কতো? ই-সিম কি? ই-সিমের সুবিধা অসুবিধা। grameenphone e sim price

https://www.mobilebd360.com/2023/08/grameenphone-e-sim-price.html


টেলিকমিউনিকেশন খাতের একটি নতুন প্রযুক্তি ই-সিম। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়তো প্রচলিত সিম কার্ড বিলুপ্ত হয়ে যাবে তার জায়গা দখল করে নেবে এই ই-সিম। এরমধ্যে বিশ্বের বহু দেশে ই-সিম সেবা চালু হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় সব অপারেটর ই-সিমের সুবিধা দিচ্ছে তারমধ্যে গ্ৰামীনফোনের ই-সিমের সুবিধা বেশি।

আজকের এই পোস্টে আপনারা জানতে পারবেন ই-সিমের দাম কতো, ই-সিম কি, এবং ই-সিম ব্যবহারে সুবিধা অসুবিধা, কি কি ফোনে ই-সিম সাপোর্ট করে। আপনার যদি ই-সিম সাপোর্ট ফোন থাকে তাহলে আপনি সকল অপারেটরের ই-সিম ব্যবহার করতে পারবেন। তো আজকে আমি এই পোস্টে ই-সিম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং যারা ই-সিম ব্যবহার করেন এই সিম সম্পর্কে ধারণা নিতে চান তাদের জন্য পোষ্টি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

ই-সিম কি?

ই-সিম হলো সিম জগতের নতুন এক ধরনের সিম প্রযুক্তি, যা প্রচারিত সিম ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সক্ষম। এটি অন্য সিমের মতো ই-সিম রিমুভ করা যায় না‌। অন্য ফোনে প্রবেশ করানো যায় না। এটি সরাসরি ফোনের মধ্যে এমবেডেভ চিপসেট আকারে সংযুক্ত থাকে। ই-সিমের পূর্ণ রুপ Embedded SIM।

ই-সিম এখন বাংলাদেশে সব সিম অপারেটর সুবিধা দিচ্ছে। এটি চাইলে আপনি কিনতে পারবেন কিন্তু ব্যবহার করার জন্য উপযুক্ত ফোন না থাকলে ব্যবহার করতে পারবেন না। এটি ব্যবহার করার জন্য আপনার ফোনে Embedded SIM সাপোর্ট থাকতে হবে বা এই চিপসের থাকতে হবে।

ই-সিম এমন এক ধরনের প্রযুক্তি যা আগে থাকে মোবাইল ফোনের ভিতরে বসানো থাকে। সাধারণ সিম আমার ব্যবহার করি যা এক ফোন থেকে অন্য ফোনে লাগানো যায় কিন্তু ই-সিম ফোনের মাদারবোর্ড আগে থেকে সংযুক্ত থাকে যার ফলে এই সিম খোলা বা লাগানো কোন ঝামেলা নেই।

ই-সিম কিনতে কতো টাকা লাগে:

বাংলাদেশের যে সকল ফোন কোম্পানি গুলো ই-সিম সেবা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে গ্ৰামীনফোনের ই-সিমের দাম ২০০-২৫০ টাকা। অন্য অপারেটর সিম গুলোর দাম প্রায় একি ২০০-৩০০ টাকার মধ্যে হবে।

বাংলাদেশের যেকোন জায়গায় থেকে আপনি এই সিম ক্রয় করতে পারবেন। আপনি যে অপারেটরের সিম কিনবেন সেই অপারেটরের আপনার জেলায় সার্ভিস পয়েন্ট গেলে পেয়ে যাবেন।

ই-সিম কিনতে আপনার বেশি কিছু লাগবে না শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের নিয়ে গেলে আপনি সিম কিনতে পারবেন।জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে তারা ডাটা নিবে এবং আপনার ৪ আঙ্গুলের ফিংগার নিয়ে একটি ই-সিম দিবে। তবে আরো একটি সুবিধা আছে আপনি যেকোন নাম্বারে ই-সিম নিতে পারেন বা আপনার পছন্দের নাম্বার দিয়ে ই-সিম নেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে আপনার দেওয়া পছন্দের নাম্বারটি অ্যাভেলেভেল হতে হবে।

ই-সিমের সুবিধা অসুবিধা:

আমরা যে সাধারণ সিম ব্যবহার করি এটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সুবিধা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ই-সিমে আরো সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের যদি একটি ই-সিম থাকে তাহলে আমরা কি কি সুবিধা ও অসুবিধা পাবো নিচে দেওয়া হলো:

সুবিধা:-

১. আপনার ফোনে ই-সিম সাপোর্ট থাকলে যেকোন অপারেটরে ই-সিম ব্যবহার করতে পারবেন।

২. সাধারণ সিমের মতো এই সিম পরিবর্তন করা যায় না।

৩. সহজে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে পরিবর্তন হওয়া যায়।

৪. ‌একটি ই-সিমে ৫টি ভার্চুয়াল সিম কার্ডের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা যায়।

৫. নেটওয়ার্ক সিগন্যাল নেই এমন এলাকায় গেলেও এই সিম কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

অসুবিধা:-

১. এই ই-সিম খোলা যায় না বা আপনি অন্য ফোনে পরিবর্তন করতে পারবেন না।

২. সিমের লোকেশন নিয়ে যদি আপনার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তাহলে আপনি সিম খুলে রাখতে পারবেন না।

কি কি ফোনে ই-সিম সাপোর্ট করবে:

আপেল:

১. আইফোন ১৪

২. আইফোন ১৪ প্লাস

৩. আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স

৪. আইফোন ১৪ প্রো

৫. আইফোন ১৩, ১৩ প্রো, ১৩ প্রো ম্যাক্স, ১৩ মিনি

৬. আইফোন ১২, ১২ প্রো, ১২ প্রো ম্যাক্স, ১২ মিনি

৭. আইফোন এসই

৮. আইফোন ১১, ১১ প্রো, ১১ প্রো ম্যাক্স

৯. আইফোন এক্সএস, এক্সএস ম্যাক্স

১০. আইফোন এক্সআর

১১. আইপ্যাড প্রো ১২.৯‑ইঞ্চি (4র্থ প্রজন্ম)

১২. আইপ্যাড প্রো ১২.৯‑ইঞ্চি (তৃতীয় প্রজন্ম)

১৩. আইপ্যাড প্রো ১১-ইঞ্চি (২য় প্রজন্ম)

১৪. আইপ্যাড প্রো ১১-ইঞ্চি (1ম প্রজন্ম)

১৫. আইপ্যাড এয়ার (৪র্থ প্রজন্ম)

১৬.আইপ্যাড এয়ার (তৃতীয় প্রজন্ম)

১৭. আইপ্যাড (8ম প্রজন্ম)

১৮. আইপ্যাড (7ম প্রজন্ম)

১৯. আইপ্যাড মিনি (৫ম প্রজন্ম)

স্যামসাং:

১. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২২ ৫জি, আল্ট্রা ৫জি, এস২২

২. স্যামসাং ফোল্ড এলটিই মডেল

৩. স্যামসাং জেড ফ্লিপ ৪

৪. স্যামসাং জেড ফ্লোড ৪

৫. স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লোড৩ ৫জি

৬. স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৫জি

৭. স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ

৮. স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লোড২ ৫জি

৯. স্যামসাং গ্যালাক্সি ফ্লোড

১০. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২১+ ৫জি

১১. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২১ আল্ট্রা ৫জি

১২. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ২০ আল্ট্রা, আল্ট্রা ৫জি

১৩. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ২০ এফই ৫জি

১৪. স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ২০ এফই

১৫. স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২০, এস২০+ এবং এস২০ আল্ট্রা

গুগল পিক্সেল:

১. গুগল পিক্সেল ৭ ‌প্রো

২. গুগল পিক্সেল ৭

৩. গুগল পিক্সেল ৬ প্রো

৪. গুগল পিক্সেল ৬

৫. গুগল পিক্সেল ৫এ ৫জি

৬. গুগল পিক্সেল ৫

৭. গুগল পিক্সেল ৪এ

৮. গুগল পিক্সেল ৪

৯. গুগল পিক্সেল ৩ এবং ৩এক্সএল (সীমিত সমর্থন)

১০. গুগল পিক্সেল ২

ই-সিম কিভাবে কাজ করে:-

ই-সিম ব্যবহার করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ই-সিম সাপোর্ট করে এমন ফোন ব্যবহার করতে হবে বা ফোন কিনতে হবে। ই-সিম মূলত একটি ইন্টারনাল চিপসেট। এটি ফোনের ভিতরে সংযুক্ত থাকে। আপনি যে অপারেটরের ই-সিম ব্যবহার করবেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে একটি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে তারা একটি স্কেনার বা কিউআর কোড দিবে। এটি আপনার ফোনে স্কান করলে আপনি সেই অপারেটরের ই-সিম ব্যবহার করতে পারবেন। কোন প্রকার সিম আপনার ফোনে ঢোকানো লাগবে না।

শেষ কথা:

পুরাতন সিমের অবসান ঘটিয়ে বাজারে আসলো নতুন ই-সিম। এই সিম ব্যবহারে আমাদের অনেক সুবিধা রয়েছে। যেখানে নেটওয়ার্ক থাকে না সেখানে এই সিম ব্যবহার করতে পারবেন। যদি আপনার ফোনে Embedded SIM সাপোর্ট থাকে তাহলে আপনি সব ই-সিম চালাতে পারবেন। আজকের এই পোস্টে আমি ই-সিম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি যদি আমার লেখা কোন ভুল হয়ে থাকে বা কোন তথ্য দিতে ভুলে যাই তাহলে আপনারা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post